1. admin@newskachua.com : newskachua.com :
  2. mohsinjournalist3@gmail.com : moshin hossain : moshin hossain
  3. rasel@newskachua.com : news kachua : news kachua
  4. shujan@newskachua.com : news chua : news chua
শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
পাসপোর্ট অফিসে দালালের দুষ্টচক্র বাংলার আনাছে-কানাছে ছেয়ে গিয়েছে ট্র্যাভেল এজেন্সির কচুয়ায় ৭০ পিস ইয়াবা সহ দুই ব্যবসায়ী গ্রেফতার কচুয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত- ১, থানায় অভিযোগ কচুয়ায় মারামারি মামলা ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন গ্রেফতার কচুয়ার পৌর আ.লীগের সাধারন সম্পাদকের পিতা আর নেই! দাফন সম্পন্ন করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিলেন কচুয়া দুই ওসি কচুয়ায় রহমত উল্যাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ কচুয়ায় বোরো ধানে স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা বিএনপি নেতা অ্যাড. মুজাম্মেল হোসেনের ইন্তেকাল করোনা মোকাবেলায় ওসি শাহজাহান কামালের ভূমিকা প্রশংসানীয়

আবেগ মানুষের মস্তিষ্কের একধরনের সংকেত পদ্ধতি : মোঃ মহসিন হোসাইন

মোঃ মহসিন হোসাইন
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২১
  • ১৭৩ বার পড়া হয়েছে

বাঙালির আবেগ-মানবতাবোধে বিশ্ব অবাক তাকিয়ে রয়। কথিত আছে, বাঙালি মাত্রই হুজুগে। আর হুজুগে বাঙালি প্রচ- আবেগপ্রবণও। এই আবেগি বাঙালি আবার মানবতাবাদীও বটে। হুজুগে বাঙালি সব কাজে তাঁর আবেগ-অনুভূতিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। অনেকের মতে, আবেগপ্রবণ বাঙালি হুশে নয়; বরং জোশে সব কাজ-কর্ম করে, বিধায় প্রায়শই বিভিন্ন কাজ-কর্মে গোলমাল বাধায়। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য বাঙালির সব অর্জনের পেছনে এই “আবেগ” নামক শব্দটি টনিক হিসেবে কাজ করেছে।

ঐতিহাসিকভাবে একথা প্রমাণিত যে, বাঙালি আবহমানকাল থেকে উদার ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী। এই দেশের রূপ-প্রকৃতি ও মানুষের আত্মীয়তায় মুগ্ধ হননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যিই দুষ্কর। বাঙালির জীবনদর্শন ও জীবনাভূতির পরতে পরতে লুক্কায়িত রয়েছে আবেগ-উচ্ছ্বাস, সহমর্মিতা ও মানবতাবোধ। এমনকি বাংলা সাহিত্য, আন্দোলন-সংগ্রাম ও খেলাধুলাসহ সর্বক্ষেত্রে রয়েছে আবেগ-অনুভূতি, সহমর্মিতা ও মানবতাবোধের সেতুবন্ধন।

তবে আবেগপ্রবণ মানুষেরা নিজেদের বোকা ভাবে। বিশেষ করে আঘাত পেলে। পৃথিবীর বেশির ভাগ আবেগপ্রবণ মানুষের মতো আমারও আবেগ নিয়ে অনেক আবেগপ্রবণ কথা বলার আছে! তারপর ভাবলাম বলা যত সহজ, গুছিয়ে লেখা ঠিক ততটাই কঠিন। আমার উদ্দীপনা কিঞ্চিৎ দমে গেল। ভাবলাম, আবেগপ্রবণ মানুষরা সত্যি কি খুব বোকা হয়। পরে চিন্তা করে দেখলাম, এ রকমভাবে ভাবাটাই আমার বোকামি। পৃথিবীর বেশির ভাগ বড় ও ভালো কাজ হয়েছে গভীর আবেগের জায়গা থেকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেলসন ম্যান্ডেলা, আইনস্টাইন, আমার জানা মতে তাঁরা সবাই আবেগপ্রবণ ছিলেন। নিজের আবেগ প্রয়োগ করেছেন বিভিন্নভাবে মানুষের ভালোর জন্য। সাধারণত বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আমরা আবেগের কথা ভাবি না। কিন্তু স্বয়ং আইনস্টাইন বলেছেন, বিজ্ঞানে জ্ঞানের চেয়ে কল্পনার ভূমিকা বড়। আবেগ ছাড়া কল্পনা হয় না। সুতরাং, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও আবেগ প্রয়োজন।

মানুষের সাধারণ মনেবৃত্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে আবেগ। আবেগের যথাযথ বহিঃপ্রকাশ মানবীয় আচরণকে বিশেষভাবে ফুটিয়ে তোলে। কিন্তু আবেগ যদি হয় মাত্রাতিরিক্ত এবং অনিয়ন্ত্রিত তবে তা অবশ্যই ক্ষতির কারণ। আর এ ধরণের আবেগপ্রবণ ব্যক্তিরা জীবনে অনেক বেশিমাত্রায় কষ্টের মুখোমুখি হন। অতিমাত্রায় আবেগপ্রবণতা যে কেবলমাত্র নিজের জন্যই ক্ষতিকর তা নয়। পরিবার এবং পারিপার্শ্বিকতার উপরও এর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। আবেগের বশবর্তী হয়ে অনেকে এমন কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, যার খারাপ ফল ব্যক্তির নিজেরসহ গোটা পরিবারকে ভোগ করতে হয়। তাই অতি আবেগকে প্রশ্রয় দেওয়া এবং তার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো কোনভাবেই উচিত নয়। মাত্রাতিরিক্ত আবেগের আরেকটি মারাত্মক কুফল হচ্ছে ভয়াবহ বিষন্নতা রোগে আক্রান্ত হওয়া। এর ফলে অনেক মানুষই ধীরে ধীরে নিজের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষ করে ফেলেন এবং একপর্যায়ে আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকে পড়্ন।ে

তাহলে আবেগ কী? প্রচলিত মনোবিজ্ঞানের সংজ্ঞায়, আবেগ মানুষের মস্তিষ্কের একধরনের সংকেত পদ্ধতি। আমাদের যদি কিছু ভালো না লাগে, তাহলে আমরা রেগে যাই। না হলে আমাদের মনে ভয় অথবা ঘৃণার সঞ্চার হয়। মন খারাপ হয়। কিছু ভালো লাগলে আমরা খুশি হই। এই সংকেতগুলো আমাদের মস্তিষ্ক আগে অনুধাবন করে। সংকেত পেয়ে আমরা আমাদের যুক্তি, অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নিই কী করব। সুতরাং, আবেগের জায়গা থেকে বেশির ভাগ মানুষের অবস্থানই কিন্তু প্রায় এক। খারাপ কিছু দেখলে বেশির ভাগ মানুষ রেগে যায়, মন খারাপ করে, ভয় অথবা ঘৃণা অনুভব করে। এই আবেগ অনুভব করার মধ্যে খারাপ কিছুু নেই, বরং যদি এই অনুভূতি না আসে, তাহলে বলতে হবে যে শারীরিক অথবা মানসিকভাবে সেই ব্যক্তি অসুস্থ।

বিষয়টাকে যদি আমরা একটু অন্যভাবে দেখি। ধরুন, আপনার হাত অবশ হয়ে আছে। এই অবস্থায় আপনি লক্ষ্য না করে আগুনে হাত রাখলেন। আপনার হাত পুঁড়ে ছারখার হয়ে যাবে কিন্তু আপনি কিছু টেরই পাবেন না। হাত যদি অবশ না থাকত, তাহলে আপনি ব্যথা পেতেন এবং ঠিক সময়মতো হাত সরিয়ে ফেলতে পারতেন। দৈহিক ব্যথা বা আনন্দ যেভাবে আমাদের শারীরিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে, ঠিক সে রকমই আবেগ আমাদের মানসিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। আমরা নিশ্চয় মনে করব যে হাত পুঁড়ে যাচ্ছে কিন্তু আমরা সেটা অনুভব করতে পারছি না, এটা এক ধরনের অসুস্থতা। ঠিক সে রকমই আমাদের মনে করা উচিত যে একজন আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে কিন্তু আমার কোনো ধরনের অনুভূতি হচ্ছে না, সেটাও একধরনের অসুস্থতা।

এখন বোকামির বিষয়টায় আসি। আগুনের ওপর হাত রেখেছেন। প্রচ- ব্যথা করছে কিন্তু আপনি হাত সরাচ্ছেন না। সেটা হলো বোকামি। ঠিক সে রকম কেউ আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে, আপনার প্রচ- রাগ অথবা মন খারাপ করছে কিন্তু আপনি সে ব্যাপারে কিছু করছেন না, সেটাও বোকামি। আপনার মন কিন্তু আপনাকে সংকেত দিচ্ছে কিন্তু সেই সংকেত অনুযায়ী আপনি কাজ করছেন না। এ অবস্থায় ব্যথা পেলে আবেগের দোষ দিয়ে কী লাভ?

এটা সত্য যে, অনেক সময় আমাদের জৈবিক অভিজ্ঞতা এতই জটিল যে আমরা কোনো ধরনের আবেগ অনুভব করি না। বেশির ভাগ পরিস্থিতিতে আমাদের মনে বিভিন্ন ধরনের আবেগের সঞ্চার হয়। সেই অনুভূতিগুলোর যথার্থ গুরুত্ব দিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা এবং বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে ঠিকঠাক সিদ্ধান্ত নিতে পারাটাই বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। এই বুদ্ধি সবার সমান থাকে না। আমার যে খুব একটা আছে, সেই দাবিও আমি করি না। থাকলে বছরের পর বছর আমাকে কষ্ট দেওয়ার পরও আমি লিভারপুলকে সমর্থন করতাম না। তবে হ্যাঁ, আমি আমার মস্তিষ্কের আবেগপ্রবণ মনকে দোষ দিই না। আবেগ আছে বলে আমি বাংলাদেশ জিতলে আনন্দ পাই। অনেক দিন পর বিদেশ থেকে ফিরে এসে মাকে দেখলে আমার চোখ ভিজে আসে। কোনো প্রিয় দুঃখের গান শুনলে মন খারাপ হয়, আবার শুনতেও ভালো লাগে।

আমাদের আবেগ আমাদের ভালো-খারাপ অনেক কিছু বলার চেষ্টা করে। আবেগ কী বলছে সেটা একটু ভালো করে শোনার চেষ্টা করলে হয়তো আমরা আরেকটু সুখী হব। নিজেদের হয়তো অতটা বোকা মনে হবে না। নিজেকে ভালো রাখতে হলে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ রাখাটা জরুরি। তাই জেনে নিন আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার কিছু উপায়।

নিজেকে বিশ্বাস করুনঃ
সবার আগে নিজের প্রতি বিশ্বাস অর্জন করুন। নিজের ইচ্ছাকে মূল্যায়ন করুন। নিজের ব্যক্তিত্বকে সম্মান করুন। এতে আপনি নিজের প্রতি আস্থা ফিরে পাবেন এবং যুক্তিবাদী হয়ে উঠবেন। যার ফলে যুক্তিহীন আবেগ আপনার বুদ্ধিবৃত্তিকে আচ্ছন্ন করতে পারবে না।

নিজেকে বোঝার চেষ্টা করুনঃ
নিজের আবেগের কারণটা কতটা যুক্তিসঙ্গত তা আপনি তখনই নির্ণয় করতে পারবেন, যখন আপনি নিজেকে সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারবেন। তাই সবার আগে নিজেকে চেনার এবং বোঝার চেষ্টা করুন। তারপর নিজের আবেগপ্রবণতার কারণটি খুঁজে বের করে সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করুন।

মনের জোর বাড়ানঃ
আবেগপ্রবণ ব্যক্তিরা সাধারণত মানসিকভাবে অন্যের প্রতি খুব বেশি নির্ভরশীল হন। যা প্রায়ই তাদের বড় ধরনের মনোকষ্টের কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই নিজের মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করুন। বাস্তব সম্মত চিন্তা করুন এবং যুক্তির দ্বারা নিজের মনকে পরিচালনা করার চেষ্টা করুন। এর ফলে আপনার মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি পাবে এবং অন্যের প্রতি নির্ভরশীলতা কমে আসবে।

নিজেকে সময় দিনঃ
মনের ক্ষত সারাতে সবচেয়ে কার্যকরী ওষুধ হচ্ছে সময়। তাই সময়কে যেতে দিন। মনে আঘাত পেলে তখুনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবেন না। এতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি থাকে। সময়ের ক্ষেপন আপনার উচ্ছ্বসিত আবেগকে প্রশমিত করে যুক্তি এবং বাস্তবতাকে উপলব্ধি করায়। তাই নিজেকে যথেষ্ট সময় দিন। এতে আপনি সহজে নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

নির্দ্বিধায় না বলুনঃ
আবেগপ্রবণতার একটি বড় সমস্যা হচ্ছে ‘না’ বলতে না পারা। যার ফলে আবেগী মানুষ অপছন্দের বিষয়গুলোর সাথে বারবার আপোস করতে গিয়ে নিজেকে নানারকম ঝামেলায় জড়িয়ে ফেলেন। আর অন্যরা তাদের আবেগকে ব্যবহার করে নিজেদের ফায়দা হাসিল করে। তাই নির্দ্বিধায় ‘না’ বলতে পারাকে রপ্ত করে ফেলুন।

ক্ষতিকর মানুষদের সঙ্গ ত্যাগ করুনঃ
আবেগপ্রবণ মানুষ যাদের প্রতি দুর্বলতা পোষণ করেন তাদের কাউকেই ছাড়তে পারেন না। বারবার তারা যত বড় অন্যায়ই করুক আর যতবড় ক্ষতির কারণই হোক না কেন একটা পর্যায়ে তাদের ক্ষমা করে দেন। ভুলেও এই কাজটি করবেন না। ক্ষমা মহৎ গুন তাই বলে বারবার নয়। এদেরকে চিহিৃত করুন এবং নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে চলুন। এতে আপনি ভালো থাকবেন এবং নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।

আবেগ-অনুভূতি, মমত্ববোধ, সহমর্মিতা ও মানবতাবোধের সমন্বয়ে পৃথিবীর বুকে গড়ে উঠা এক বিস্ময় জাতির নাম বাঙালি। গোটা বিশ্বজুড়ে আজ বাঙালিদের জয়জয়কার। তবে আবেগের কারনে বাঙালী যতটা জয়জয়কার হয়েছেন, আবার ক্ষতির সম্মখীনও হয়েছেন। আবেগকে ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে একটু ঠান্ডা মাথায় ভেবেই সিদ্ধান্ত নিন। দেখবেন খুব সহজেই আপনি সফল হয়ে উঠবেন। আবেগ মানুষকে যেমন সফল করতে পাওে আবার ক্ষতিও করতে পারে।

 

লেখক পরিচিতিঃ
লেখক, কলামিস্ট ও সাংবাদিক

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট নকশা প্রযুক্তি সহায়তায় : মাল্টিকেয়ার

প্রকাশিত/প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র,ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।